fbpx
Wednesday, September 23, 2020
হোম Tech স্যামসাং এর উত্থান-পতন

স্যামসাং এর উত্থান-পতন

১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত স্যামসাং, সময়ের সাথে সাথে তার ব্যাপ্তিকে নিয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। কেবল বিশ্বের বৃহত্তম মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বলেই নয়, গুণগত মান ও বৈচিত্রের দিক থেকে তাদের পণ্যসমূহও অনন্য। এ পর্যন্ত মোটামুটি সবাই-ই আমরা অবগত। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির সুবিশাল পরিধি এবং কর্মযজ্ঞের ব্যাপারে আমাদের ধারণা কমই। জেনে অবাক হতে পারেন, বুর্জ খলিফার মতো আকাশচুম্বী ভবনের নির্মাণশৈলীতেও ভূমিকা ছিল স্যামসাং-এর।

স্যামসাং ও দক্ষিণ কোরিয়ার জিডিপি

শুধু নিজেদের মুনাফাই নয়, বরং দক্ষিণ কোরিয়ার সামগ্রিক জিডিপিতেও নিরন্তর অবদান রেখে চলেছে স্যামসাং। ২০১৭ সালের সিএনএন-এর এক রিপোর্ট অনুসারে, কোরিয়ার সামগ্রিক জিডিপির প্রায় ১৫ শতাংশ আসে শুধুমাত্র স্যামসাং থেকে। কোরিয়ার পুঁজি-বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ লেনদেন স্যামসাং এবং এর সম্পূরক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স।গুণগত পরিবর্তনের এক জোর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পরবর্তী সময়ে স্যামসাং বাজারে ততটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পেয়ে প্রধান লি কুন হি বেশ হতাশ হয়ে পড়েন। ফোন, টেলিভিশন, ফ্যাক্স মেশিনসহ কয়েকটি স্যামসাং পণ্যের বিরুদ্ধে আসতে থাকা বেশ কিছু মারাত্মক অভিযোগই ডেকে এনেছিল এই দুর্গতি। লি তখন বুদ্ধিদীপ্ত একটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রায় দু’হাজার কর্মীর সামনে ত্রুটিযুক্ত এসব পণ্য বিনষ্ট করার এক অভিনব আয়োজন করেন তিনি। একদিনে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্যসামগ্রী ধ্বংস করে ফেলা হয়। আর ঠিক এই কাজটির ফলেই প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের মধ্যে এক তীব্র অনুশোচনার জন্ম হয়।

১৯৯৫ সালের এই ঘটনা স্যামসাং-কে আমূল বদলে দেয়। নতুন ব্যবস্থাপনা আর সত্যিকারের গুণগত মানসম্পন্ন পণ্যের মাধ্যমে বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির আজকের গৌরবময় জয়যাত্রার অনেকটা কৃতিত্ব লি আর তার বোর্ডের, তাদের সেই ‘ড্রপটেস্ট’-এর।

১ম সিডিএমএ ফোন

১৯৯৬ সালে স্যামসাং সিডিএমএ প্রযুক্তিতে SCH-100 নামের নতুন একটি ফোন বাজারে নিয়ে আসে। তখনকার দিনে এই প্রযুক্তি ছিল একদমই নতুন একটি ধারণা। বর্তমানের জিএসএম নেটওয়ার্কের তুলনায় তখনকার এই প্রযুক্তিতে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও ফোনটি বাজারে বেশ ভালো সাড়া ফেলে দেয়।

স্যামসাং এর উত্থান-পতনসিডিএমএ প্রযুক্তির ফোন SCH-100

অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএসের আগেই স্মার্টফোনের ধারণা

স্যামসাং যদিও সবার আগে পরিপূর্ণ স্মার্টফোন বাজারে নিয়ে আসতে পারেনি, কিন্তু ধারণার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি বেশ এগিয়ে ছিল। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের স্প্রিন্ট অপারেটরের জন্য SPH-i300 নামের একটি পিডিএ ফোন বাজারে নিয়ে আসে। পাম ওএস চালিত এই ফোনে আধুনিক স্মার্টফোন ধারণার অনেক বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান ছিল।

বিক্রির দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটির সেরা ফোন 

স্যামসাং ই১১১০ নামের ফিচার ফোনটি হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সবথেকে বেশি বিক্রিত মোবাইল ফোন। ২০০৯ সালে বাজারে আসা এই ফিচার ফোনটি পরবর্তী ৩ বছর পর্যন্ত উৎপাদনে ছিল। এক পরিসংখ্যান অনুসারে, এ সময়ে স্যামসাং প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ইউনিট ই১১১০ বাজারে বিক্রি করেছে।

স্যামসাং এর উত্থান-পতনস্যামসাং ই১১১০

ফিচার ফোনের এই মডেলটি পৃথিবীতে মোবাইল ফোনের বিক্রির ইতিহাসে ৮ম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে।

২০১২ এর প্রথমদিকে, একক বিক্রয় দ্বারা নকিয়া ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম মোবাইল ফোন নির্মাতা হয়ে ওঠে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স, যা ১৯৯৮ সাল থেকে বাজার নেতা হয়ে আসছে। অস্টিন আমেরিকান স্টেটসম্যান ২১ আগস্ট এর সংস্করণ অনুযায়ী, স্যামসাং তার নিশ্চিত পরিকল্পনার ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে অস্টিন চিপ উৎপাদন শিল্প থেকে রূপান্তর করে আরো লাভজনক চিপ তৈরীতে। ২০১৩ সালের প্রথমে উৎপাদন সক্রিয় রেখে রূপান্তর শুরু করা হয় যা একই বছর ২০১৩ সালের শেষের দিকে শেষ হয়। ১৪ মার্চ ২০১৩, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৪ উন্মোচন করেন।

২০১৪ সালে তাদের মোট রেভিনিউ হল ৩০৫ বিলিয়ন ডলার, তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেক জায়ান্ট অ্যাপল হল $১৮৩ বিলিওন আর গুগলের হল মাত্র ৬৬ বিলিয়ন আর মাইক্রোসফট এর হল $৯৩ বিলিয়ন।তবে ২০১৫ তে তাদের আয় কিছুটা কম হয়েছে।শ্রমিক সংখ্যার দিক দিয়েও তারা এগিয়ে, তাদের শ্রমিক সংখ্যা হল ৪লাখ ৯০ হাজার, যা তার নিকটতম তিন প্রতিদ্ন্দ্বী অ্যাপল, মাইক্রোসফট, আর গুগলের মোট শ্রমিক সংখ্যার থেকে বেশি। তাদের নিজস্ব একটি ক্ষুদ্র সেনাবাহিনীও আছে। কোরিয়া তে স্যামসাং এর শিপ বিল্ডিং ইয়ার্ড টির আয়তন ৪০০ মিলিওন (১০ লাখ=১মিলিওন) বর্গফুট, যা পৃথিবীর সবচাইতে বড়। এল ট্রিস্টিনো বা মবি ডিকের মত বিশাল বিশাল জাহাজগুলো এখানেই নির্মিত।

স্মার্ট ফোনের বাজারেও তারাই এখন অনেক এগিয়ে

স্যামসাং এর উত্থান-পতন

২০১৪ তে বিক্রিত মোট স্মার্ট ফোনের ২৫.২০% হল স্যামসাং এর আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর অ্যাপেলের হল মাত্র ১১.৯%। ২০১২ সালে তারা ২১৫৮ লক্ষাধিক স্মার্ট ফোন বিক্রি করে যা তার নিকটতম তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর মোট বিক্রির চেয়েও বেশি। পৃথিবীতে প্রতি ৩ টি ক্রয়কৃত স্মার্টফোনের ভিতর একটি হল স্যামসাং। তবে ২০১৫ তে এসে তাদের গালাক্সি ৬ এবং ৬ এজ আইফোন ৬ এর কাছে মার খেয়ে যায়।

স্যামসাং এর উত্থান-পতন

স্যামসাং আলট্রা হাঁই ডেফিনেশান টিভি

স্যামসাং টেলিভিশন ও কম যায় না। এমলেড টেলিভিশন এর বাজারে ৯৮% তাদের তৈরি।তারা ৮৫ ইঞ্চি আল্ট্রা এইচডিটিভি তৈরী করেছে যার দাম পড়বে প্রায় ৪০০০০ ডলার। আরো মজার ব্যাপার হল তাদের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপল তাদের আইফোন ৬ এ যে রেটিনা ডিসপ্লে ব্যাবহার করেছে তার সবই স্যামসাং থেকেই ক্রয়কৃত। মাইক্রোচিপ ও প্রসেসর নির্মানে ইন্টেল এর পরেই তাদের অবস্থান। অ্যাপল তার আইফোন ৪এস, ৫, ৫এস, ৬, ৬এস ও আইপ্যাড ১০.১ এ ব্যবহৃত ৩০% প্রসেসর স্যামসাং এর মাধ্যমে তৈরি করে।

যুক্তরাস্ট্রের ইতিহাসে সবচাইতে বেশি যন্ত্রের প্যাটেন্ট হল ইন্টেল আর স্যামসাং এর। তবে কয়েক বছর ধরে ইন্টেল স্যামসাং কে পেছনে ফেলে রেখেছে। স্যামসাং এর আর একটি অভুতপুর্ণ তথ্য হল, তাদের ১০০% পন্যই “Global Standard Environment Certification” প্রাপ্ত।

Must Read

কেমব্রিজ পিডিকিউ সেন্টার হিসেবে অনুমোদন পেলো ডিপিএস এসটিএস স্কুল

কেমব্রিজ প্রফেশনাল ডেভলপমেন্ট কোয়ালিফিকেশন (পিডিকিউ) সেন্টার হিসেবে অনুমোদন পেলো ডিপিএস এসটিএস স্কুল ঢাকা। ডিপিএস এসটিএস স্কুলের নিম্ন মাধ্যমিকের ডিন অব অ্যাকাডেমিকস পিডিকিউ...

হেকিমি চিকিৎসা কি?

হেকিমি চিকিৎসা পদ্ধতি কি? হেকিমি চিকিৎসা (Hakeemi Treatment)  ইউনানি দর্শনভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি। উদ্ভিজ্জ ভেষজ দ্বারা ঐতিহ্যিক ধারায় রোগ নিরাময়ের এই পদ্ধতির চিকিৎসকরা হেকিম নামে পরিচিত। হেকিম...

অবচেতন মনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন? কিন্তু কীভাবে?

মনে করুন, আপনি খুব সচেতনভাবেই চাইছেন কোনো একটি কাজ করতে। আপনার বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যরাও আপনাকে প্রণোদনা যোগাচ্ছে কাজটি করার জন্য। কিন্তু বাস্তবে কাজটি করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন আপনি।

ডিকয় ইফেক্ট : অকারণে বেশি খরচ করতে উৎসাহী করে

ডিকয় ইফেক্ট: যা আপনাকে অকারণে বেশি খরচ করতে উৎসাহী করে

‘দ্য গডফাদার’ সিনেমার পেছনের ইতিহাস

'দ্য গডফাদার' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে মারিয়ো পুজোর পঞ্চম উপন্যাস দ্য গডফাদারের উপর ভিত্তি করে। উপন্যাসটির যখন মাত্র ১০০ পৃষ্ঠা লেখা হয়, তখন থেকেই প্যারামাউন্ট বইটির স্বত্তাধিকার কেনার পরিকল্পনা করতে থাকে এবং শেষে ৮০,০০০ ডলারে সেটি কিনে নেয়। 'The Godfather Legacy' ডকুমেন্টরি থেকে জানা যায়, তখনকার প্যারামাউন্ট পিকচারসের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্ট্যানলি জেফি টেলিফোন করেন আলবার্ট রুডিকে (গডফাদারের নির্মাতা), এবং জিজ্ঞেস করেন তিনি কি গডফাদার মুভির নির্মাতা হতে চান কি না। আলবার্ট তখনো বইটি পড়েননি। তাই তিনি সাথে সাথেই বইটি কিনে আনেন এবং অন্য সবার মতোই মুগ্ধ হয়ে যান। হলিউডের সেরা কিছু চলচ্চিত্রের নাম বললে সেখানে ‘দ্য গডফাদার’ যে থাকবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
//graizoah.com/afu.php?zoneid=2982870