fbpx
হোম History বিধবা বিবাহের প্রবর্তক ছিলেন যিনি

বিধবা বিবাহের প্রবর্তক ছিলেন যিনি

বিধবা বিবাহ

দ্য হিন্দু উইডো’স রিম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৮৫৬ আইনটি ২৬ জুলাই ১৮৫৬ এ আইন প্রণয়ন করেছিল, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীনে ভারতবর্ষের সকল বিচারব্যবস্থায় হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহ বৈধ করেছিল। বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় তৎকালীন বড়লাট লর্ড ডালহৌসি আইন প্রণয়ন করে বিধবা বিবাহ কে আইনী স্বীকৃতি দেন। লর্ড উইলিয়ম বেন্টিনয়ের দ্বারা সতীদাহ বিলুপ্ত করার পর এটিই প্রথম বড় সমাজ সংস্কার আইন।

পারিবারিক সম্মান ও পারিবারিক সম্পত্তির কথা বিবেচনা করে, উচ্চ-বর্ণবাদী হিন্দু সমাজ দীর্ঘদিন ধরে বিধবা, এমনকি শিশু ও কিশোর-কিশোরদের পুনর্বাসনের বা বিয়ের অনুমতি দেয়নি, যার ফলে তাদের অনেক নিষ্ঠুর ও বঞ্চনার জীবনযাপন করতে হত। ১৮৫৬ সালের হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন একজন হিন্দু বিধবার উত্তরাধিকারের জন্য কিছু ক্ষতির বিরুদ্ধে আইনী সুরক্ষা প্রদান করেছিল, যদিও, আইনের অধীনে বিধবা তার মৃত স্বামীর উত্তরাধিকার ত্যাগ করে। বিশেষ করে এই আইন করার লক্ষ্য ছিল কিছু হিন্দু বিধবা শিশু জন্য, যার স্বামী বাড়িতে যাবার আগে বিধবা হয়ে যেতো।

উচ্চ-বর্ণের হিন্দু সমাজ দীর্ঘদিন যাবৎ বিধবাদের পুনরায় বিবাহের অনুমোদন দেয় নি। বিধবারা এমনকি যারা শৈশবে বা কৈশোরে বিধবা হয়েছিলেন তারাও বৈরাগ্য ও কঠোর ত্যাগস্বীকার করে জীবনযাপন করবেন এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। তথাকথিত পরিবারের সম্মান ও পারিবারিক সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য এরকম নিয়ম করা হয়েছিল। পণ্ডিত ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের অকালন্ত প্রচেষ্টায় ব্রিটিশ সরকার ভারতে হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন, ১৮৫৬, প্রণয়ন করে যার মাধ্যমে বিধবাদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদি সামাজিক রক্ষাকবচ প্রদান করা হয়।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর প্রাথমিক ভাবে কেন বিধবা বিবাহ নিয়ে এগিয়ে আসেন তা নিয়ে উনিশ শতকে তার দুই জীবনীকার বিহারীলাল সরকার এবং চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষ্য আলাদা। তার ছোট ভাই শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্নের বক্তব্যটিই অনেকে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করেন (‘বিদ্যাসাগর-জীবনচরিত ও ভ্রমনিরাস’)। চণ্ডীচরণের মতে, সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক শম্ভুচন্দ্র বাচস্পতির বালিকাবধূর অকালবৈধব্য বিদ্যাসাগরকে এই ‘মহৎ কর্মে ব্রতী’ হওয়ার জন্য প্রাণিত করে। বিহারীলাল লিখেছেন, বীরসিংহে বিদ্যাসাগরের এক বাল্যসহচরী ছিল। সে অকালে বিধবা হয়। এক দিন তিনি শুনলেন একাদশী বলে মেয়েটি সারা দিন খায়নি। আর শুনে তিনি কেঁদেই ফেললেন। তবে এই দুটো ঘটনাই তার ছাত্রজীবনে ঘটা। আর শম্ভুচন্দ্র যা বলছেন তা তার কর্মজীবনের শেষ দিকের। ঘটনা এ রকম যে, এক দিন বিদ্যাসাগর বাড়ির চণ্ডীমণ্ডপে বসে বাবার সঙ্গে স্থানীয় বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা সম্পর্কে যখন আলোচনা করছেন, তখনই তার মা ‘রোদন করিতে করিতে’ সেখানে এসে ‘একটি বালিকার বৈধব্য-সংঘটনের উল্লেখ করত,’ তাকে বললেন ‘তুই এত দিন যে শাস্ত্র পড়িলি, তাহাতে বিধবাদের কোনও উপায় আছে কিনা?’ তার বাবাও তখন জানতে চাইলেন, ধর্মশাস্ত্রে বিধবাদের প্রতি শাস্ত্রকারেরা কী কী ব্যবস্থা করেছেন? এর পরই নাকি ‘শাস্ত্র-সমুদ্র মন্থন’ করে তিনি লিখলেন ‘বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা’ শীর্ষক প্রবন্ধটি, যা ১৮৫৪-র ফেব্রুয়ারিতে ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’-য় প্রকাশিত হয়। ১৮৫৫-র জানুয়ারিতে প্রকাশিত হল তার ‘বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব।’ এর পরই সৃষ্টি হল প্রবল আলোড়ন। শেষে ১৮৫৬-র ২৬ জুলাই অনুমোদিত হল বিধবাবিবাহ আইন।

প্রথম বিধবাবিবাহ

নিজের শিশুকন্যার বালবৈধব্য ঘোচাতে রাজা রাজবল্লভ অনেক কাল আগে বিধবাবিবাহ প্রচলনে উদ্যোগী হয়েছিলেন, কিন্তু নবদ্বীপের পণ্ডিতসমাজের বিরোধিতায় তা বানচাল হয়ে যায়। রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ১৮৫৬ সালের ৭ ডিসেম্বর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-এর উপস্থিতিতে প্রথম বিধবা বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

Source: উইকিপিডিয়া।

Must Read

হেকিমি চিকিৎসা কি?

হেকিমি চিকিৎসা পদ্ধতি কি? হেকিমি চিকিৎসা (Hakeemi Treatment)  ইউনানি দর্শনভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি। উদ্ভিজ্জ ভেষজ দ্বারা ঐতিহ্যিক ধারায় রোগ নিরাময়ের এই পদ্ধতির চিকিৎসকরা হেকিম নামে পরিচিত। হেকিম...

অবচেতন মনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন? কিন্তু কীভাবে?

মনে করুন, আপনি খুব সচেতনভাবেই চাইছেন কোনো একটি কাজ করতে। আপনার বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যরাও আপনাকে প্রণোদনা যোগাচ্ছে কাজটি করার জন্য। কিন্তু বাস্তবে কাজটি করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন আপনি।

ডিকয় ইফেক্ট : অকারণে বেশি খরচ করতে উৎসাহী করে

ডিকয় ইফেক্ট: যা আপনাকে অকারণে বেশি খরচ করতে উৎসাহী করে

‘দ্য গডফাদার’ সিনেমার পেছনের ইতিহাস

'দ্য গডফাদার' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে মারিয়ো পুজোর পঞ্চম উপন্যাস দ্য গডফাদারের উপর ভিত্তি করে। উপন্যাসটির যখন মাত্র ১০০ পৃষ্ঠা লেখা হয়, তখন থেকেই প্যারামাউন্ট বইটির স্বত্তাধিকার কেনার পরিকল্পনা করতে থাকে এবং শেষে ৮০,০০০ ডলারে সেটি কিনে নেয়। 'The Godfather Legacy' ডকুমেন্টরি থেকে জানা যায়, তখনকার প্যারামাউন্ট পিকচারসের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্ট্যানলি জেফি টেলিফোন করেন আলবার্ট রুডিকে (গডফাদারের নির্মাতা), এবং জিজ্ঞেস করেন তিনি কি গডফাদার মুভির নির্মাতা হতে চান কি না। আলবার্ট তখনো বইটি পড়েননি। তাই তিনি সাথে সাথেই বইটি কিনে আনেন এবং অন্য সবার মতোই মুগ্ধ হয়ে যান। হলিউডের সেরা কিছু চলচ্চিত্রের নাম বললে সেখানে ‘দ্য গডফাদার’ যে থাকবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

শুচিবায়ুঃ অভ্যাস নাকি ব্যাধি?

বাংলায় আমরা যেটাকে ‘শুচিবায়ু’ বলে থাকি, সেটা বিশেষ একটা মনস্তাত্ত্বিক রোগের নাম। যাকে ইংরেজীতে ‘অবসেসিভ-কমপালসিভ ডিজঅর্ডার’ (Obsessive-Compulsive Disorder বা সংক্ষেপে OCD) বলা হয়। তবে এই রোগের লক্ষণগুলো চরম পর্যায়ে পৌছালে অথবা দৈনন্দিন জীবনে এই উপসর্গগুলোর নেতিবাচক প্রভাব পড়া শুরু করলে তবেই একে ওসিডি বলা যাবে।
//graizoah.com/afu.php?zoneid=2982870